[ad_1]
By Malobika Sen
(This blog is the first in the series of blogs that JILS will publish in various vernacular languages as part of its initiative to mark the International Mother Language Day.)
একটু দেরী হলেও অবশেষে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতা হাইকোর্টের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ডিভিশন রুলস, ২০২৩ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়মের মাধ্যমে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে: ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ডিভিশন এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস অ্যাপিলেট ডিভিশন। এই বিভাগগুলো সমস্ত মৌলিক, আপিল, রিট এবং বিবিধ বিচারিক ক্ষমতা বাস্তবায়ন করবে।
সামান্য দেরী হলেও অবশেষে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতা হাইকোর্টের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ডিভিশন রুলস, ২০২৩ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়মের মাধ্যমে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে: ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ডিভিশন এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস অ্যাপিলেট ডিভিশন। এই বিভাগগুলো সমস্ত মৌলিক, আপিল, রিট এবং বিবিধ বিচারিক ক্ষমতা বাস্তবায়ন করবে।
কলকাতা হাইকোর্টের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ডিভিশন নিয়মাবলি, ২০২৩, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুটি নতুন বিভাগ তৈরি হয়েছে— ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ডিভিশন (আইপিআরডি) এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস আপিলেট ডিভিশন (আইপিআরএডি)। এই বিভাগগুলি আইপিআর সম্পর্কিত সকল মূল, আপিল, রিট এবং অন্যান্য বিষয়ে বিচার কার্য পরিচালনা করবে।[1]
আইপিআর (মেধাস্বত্ব বিষয়ক) আইন বা বৌদ্ধিক সম্পত্তি (আইপি) আইন বলতে মনের সৃজনশীল সৃষ্টি বোঝায়, যেমন উদ্ভাবন, সাহিত্য ও শিল্পকলা, নকশা এবং ব্যবসায় ব্যবহৃত প্রতীক, নাম ও চিত্র।[2]আইপি আইন দ্বারা সুরক্ষিত, যেমন পেটেন্ট, কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক, যা মানুষকে তাদের উদ্ভাবন বা সৃষ্টির জন্য স্বীকৃতি বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ দেয়। উদ্ভাবকদের স্বার্থ ও বৃহত্তর জনস্বার্থের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করে, আইপি ব্যবস্থা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করে যেখানে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন বিকশিত হতে পারে।এই আইনের উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকারীদের তাদের কাজের উপর মালিকানা এবং ব্যবহারিক অধিকার প্রদান করা।
ভারতে আইনি পদ্ধতিতে মেধাস্বত্ব বিষয়ক মামলা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের আদালত রয়েছে।[3] মেধাস্বত্ব বিষয়ক মামলা সাধারণত কমার্শিয়াল কোর্ট বা উচ্চ আদালতের কমার্শিয়াল ডিভিশনে শোনা হয়। দিল্লি, কলকাতা এবং মাদ্রাজ উচ্চ আদালতে মেধাস্বত্ব বিষয়ক বিশেষায়িত বিভাগ (I.P. Division) স্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে, মেধাস্বত্ব বিষয়ক মামলা পরিচালনার জন্য ২০০৩ সালে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অ্যাপিলেট বোর্ড (IPAB) স্থাপন করা হয়েছিল।[4] এটি ট্রেডমার্ক আইন, পেটেন্ট আইন, কপিরাইট আইন, এবং ভৌগোলিক নির্দেশিকা আইনের অধীনে মামলাগুলি শুনতেন।বোর্ডের দায়িত্ব ছিল কপিরাইট নিবন্ধন, কপিরাইট হস্তান্তর, জনসাধারণের জন্য অপ্রকাশিত ভারতীয় রচনা, অনুবাদ এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ও উৎপাদিত রচনাসমূহের লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা। এছাড়াও, এটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর অধীনে অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত মামলাগুলি শুনত।কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ২০১২, যা ২১শে জুন, ২০১৫ থেকে কার্যকর হয়, ধারা ১১ অনুযায়ী দিল্লিতে সদর দফতরসহ একজন চেয়ারম্যান এবং দুইজন সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণকালীন IPAB গঠনের বিধান করেছিল।
তবে, আইপিএবি-র কার্যক্রমে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, যেমন অবকাঠামোগত অভাব, মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে সীমিত দক্ষতা। এসব কারণে ২০২১ সালে ট্রাইব্যুনাল রিফর্মস অ্যাক্ট, ২০২১-এর মাধ্যমে আইপিএবি বিলুপ্ত করা হয়। আইপিএবি-র অধিকার এবং কার্যক্রমগুলি উচ্চ আদালতগুলিতে স্থানান্তর করা হয়।[5]
আইপিএবি বিলুপ্ত হওয়ার পরে, মেধাস্বত্ব বিষয়ক মামলাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য দিল্লি, কলকাতা এবং মাদ্রাজ উচ্চ আদালতে আইপিডি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই আইপিডিগুলি দ্রুত এবং পর্যাপ্ত ন্যায়বিচারের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির আশা নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা
কলকাতা আইপিডি-র নিজস্ব বিধি এবং নিয়মাবলী রয়েছে, যা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মানসম্মত বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে আশা করা হয়।[6] এই বিধিগুলি সাধারণত প্রাক-বিচার প্রক্রিয়া, ডকুমেন্ট জমা দেওয়া, বিশেষজ্ঞ সাক্ষী নিয়োগ, এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে। এটি মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বিচারপতিদের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করে এবং আবেদনকারীদের জন্য আরও কার্যকর আইনি পরিসেবা প্রদান করে।[7]
নিয়মাবলির ২১(e) ধারায় বলা হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের প্রমাণ নেয়ার ক্ষেত্রে হট-টাবিং বা প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এটি আইপিআর মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে সাহায্য করবে। ২২ ধারায় স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে। পার্টির অনুরোধে আইপিআরডি প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা বিষয়ের ওপর মতামত গ্রহণের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারে। পার্টির দেয়া তালিকা থেকে বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা সম্ভব না হলে, আইপিআরডি নিজস্ব তালিকা থেকে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারে।[8]
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে: (i) স্বার্থ-সংঘাতহীন এবং নিরপেক্ষ সহায়তার ঘোষণা, (ii) লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া, এবং (iii) সেই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস উল্লেখ করা। এছাড়া, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর ক্ষমতাও দেওয়া যেতে পারে।[9]
দিল্লি হাইকোর্টের তুলনায় ঘাটতি
যদিও এই নিয়মাবলির মাধ্যমে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার গুরুত্ব উপলব্ধি করা গেছে, তবে বিশেষজ্ঞদের তালিকা তৈরির মাপকাঠি উল্লেখ করা হয়নি। দিল্লি হাইকোর্টের আইপিআরডি নিয়ম এবং পেটেন্ট স্যুট নিয়ম এ বিষয়ে বেশ অগ্রসর। সেখানে টেকনিক্যাল প্রাইমার, বিশেষজ্ঞ প্যানেল এবং কনফিডেনশিয়ালিটি ক্লাবের মতো অভিনব পদ্ধতি রয়েছে। টেকনিক্যাল প্রাইমার হলো একটি ডকুমেন্ট বা প্রেজেন্টেশন যা পেটেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সহজভাবে ধারণা দেয়। এটি কেস ম্যানেজমেন্ট হিয়ারিংয়ের আগেই জমা দিতে হয়, যা বিচারকদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
দিল্লি হাইকোর্টের পেটেন্ট স্যুট নিয়মের ১৩ ধারায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের উল্লেখ রয়েছে। প্যানেলের সদস্যরা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হতে পারেন, যেমন বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, অ্যাকাডেমিক, পেটেন্ট এজেন্ট ইত্যাদি। সদস্যদের নিযুক্তির আগে কোনো স্বার্থ-সংঘাত নেই বলে ঘোষণা দিতে হয়। এছাড়া, বিশেষজ্ঞদের সম্মানীর বিষয়েও সেখানে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, যা বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোগত পদ্ধতি তৈরি করে।
কনফিডেনশিয়ালিটি ক্লাব (সিসি) সংবেদনশীল তথ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যা ভারতীয় আদালতগুলিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি মামলার পক্ষগুলোর গোপনীয় তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং তথ্য ফাঁস হওয়া থেকে বিরত রাখতে কার্যকর। কলকাতা হাইকোর্টের নিয়মাবলিতে এর উল্লেখ না থাকায় এটি দিল্লি ও অন্যান্য আদালতের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। হট-টাবিং পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও এটি সিসি-র বিকল্প হতে পারে না।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
কলকাতা হাইকোর্টের নিয়মাবলিতে কাস্টম আইন প্রয়োগজনিত বিরোধের কোনো উল্লেখ নেই, যা মাদ্রাজ হাইকোর্টের নিয়মাবলিতে রয়েছে। আবার, পার্টি বা বিষয় বিশেষজ্ঞদের হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি। আদালতের কার্যক্রমে বিষয় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যেখানে আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা বিদ্যমান।
আগে খসড়া নিয়মে অনলাইন অনুবাদ সরঞ্জাম (যেমন গুগল ট্রান্সলেট) ব্যবহারের প্রস্তাব থাকলেও, এটি চূড়ান্ত নিয়মে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে, অনুবাদের নির্ভুলতা যাচাইয়ের দায়ভার অন্য পক্ষের উপর দেয়া হয়েছে। এই ধরনের পদ্ধতি অনুবাদের মানের প্রশ্ন তোলে এবং আদালতের কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারেন।
নিয়মাবলির একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ প্রবেশগম্যতা এবং উপযুক্ত সুবিধা প্রদান। আইপিআরডি ও আইপিআরএডি প্রয়োজনে আবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যুক্তিসঙ্গত সুবিধা প্রদানে নির্দেশ দিতে পারেন। সব নথি পিডিএফ ফরম্যাটে জমা দিতে হবে এবং ওসিআর (অপটিকাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন) সক্ষম হতে হবে। এই উদ্যোগ ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনি কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী আইপিআর সম্পর্কিত আপিল এবং আবেদনগুলি পরিচালনার জন্য ডিভিশন বেঞ্চের দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া, দুটি একক বেঞ্চ আইপিআর মামলাগুলিও পরিচালনা করবেন। বিচারপতি রবি কৃষ্ণ কপূর ২০২০ সালের পর থেকে দায়ের করা মামলাগুলি তদারকি করবেন, এবং বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ২০১৯ সালের মধ্যে দায়ের করা মামলাগুলি পরিচালনা করবেন।[10]
বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যের ভূমিকা ও প্রভাব
চলুন দেখে নিই, কীভাবে মেধাস্বত্ব মামলায় বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত বিচারকদের ব্যবহার করা হয় সারা বিশ্বে!
ইংল্যান্ডের[11] মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত আদালত কপিরাইট লঙ্ঘন, ট্রেডমার্ক বিরোধ, পেটেন্ট লঙ্ঘন এবং ডিজাইন সংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তির জন্য বিশেষভাবে গঠিত। এই আদালত বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা ১৯৯৯ সালে সিভিল প্রসিডিউর রুলস (CPR) ৩৫-এর মাধ্যমে আধুনিক কাঠামো লাভ করে। CPR ৩৫ বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য গ্রহণের নিয়ম নির্ধারণ করে এবং এতে তিনটি মূল নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: প্রথমত, আদালতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, এবং তৃতীয়ত, তাদের মতামত লিখিত আকারে আদালতে উপস্থাপন করা। আদালতের অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ ও মূল্যায়নকারীরা কেবলমাত্র নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই মতামত প্রদান করতে পারেন, এবং আদালতের প্রতি তাদের প্রথমিক দায়বদ্ধতা থাকে, যেটি পক্ষগুলোর স্বার্থের ঊর্ধ্বে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ পেটেন্ট আদালত (UPC)[12] -এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিগত ও আইনি জটিলতা বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত বিচারকদের ভূমিকা। যেহেতু পেটেন্ট বিরোধগুলোর মধ্যে উচ্চ মাত্রার প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক বিষয় জড়িত থাকে, তাই আদালত পেটেন্ট আইন বিশেষজ্ঞ বিচারকদের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিচারকদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে।প্রযুক্তিগত বিচারকেরা সাধারণত আদালতের প্যানেলে একজন আইনি বিচারকের সাথে থাকেন এবং মামলার প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করেন। তাদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রের (যেমন বায়োটেক, সফটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইঞ্জিনিয়ারিং) বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকেন পেটেন্টের বৈধতা, নতুনত্ব, ও উদ্ভাবনী পর্যায় নির্ধারণে সাহায্য করেন, এবং আদালতকে জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রশ্নের বিশ্লেষণে সহায়তা করেন। বিচারক প্রযুক্তিগত বিষয় বুঝতে সহায়তা করেন, যাতে সিদ্ধান্ত আরও সঠিক ও সুবিবেচিত হয়। UPC-তে পক্ষগুলো নিজেদের পক্ষে বিশেষজ্ঞ সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারে, যারা নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বা শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ। তাদের ভূমিকা হলো:আদালতকে পেটেন্ট লঙ্ঘন বা বৈধতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান কর, প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য ব্যাখ্যা করা, যা মামলার ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং পেটেন্ট দাবির পরিধি ও ব্যাখ্যা নিয়ে মতামত প্রদান করা।
জাপানে[13] আইপি মামলায় বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্তকরণ একটি বহুমুখী কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা থাকে। আইপি হাই কোর্ট এবং টোকিও ও ওসাকা জেলা আদালতে প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা, বিচার বিভাগীয় গবেষণা কর্মকর্তা এবং আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ সাক্ষী নিয়োগ করা হয়। প্রযুক্তিগত উপদেষ্টারা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক এবং পেটেন্ট অ্যাটর্নির মতো প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, যাদের কাজ হলো আদালতকে নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান করা। অন্যদিকে, বিচার বিভাগীয় গবেষণা কর্মকর্তারা পুরো সময়ের জন্য আদালতের অধীনে কাজ করেন এবং আইপি মামলার প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করেন। এই কর্মকর্তা ও পরামর্শকরা বিচারকদের সহযোগিতা করেন এবং প্রায়শই মামলার শুনানির সময় ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এছাড়া, আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরা নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বিষয়ের ওপর মতামত প্রদান করেন, যা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে এবং জেরা করা যেতে পারে। এই কাঠামো বিশেষত পেটেন্ট বিরোধ এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা সংবলিত আইপি মামলাগুলোর কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে সহায়ক। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, জাপানে অ্যামিকাস ব্রিফ পদ্ধতিও চালু হয়েছে, যেখানে আদালত জনমত আহ্বান করে এবং পক্ষগুলো তাদের পক্ষে উপযুক্ত মতামত ব্যবহার করতে পারে। একইসঙ্গে, কিছু ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ পরিদর্শকদের মাধ্যমে অন-সাইট তদন্তও পরিচালিত হয়, যারা সম্ভাব্য পেটেন্ট লঙ্ঘনের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করে। এই কাঠামো জাপানের আইপি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে নির্ভুল ও দক্ষ করে তুলেছে, যা বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন ও শিল্পসম্পত্তি সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
সমন্বিত জাতীয় নিয়মের প্রয়োজন
দিল্লি, মাদ্রাজ এবং কলকাতা হাইকোর্টের নিয়মাবলি ভারতীয় আইপিআর বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে, এখনই একটি সমন্বিত জাতীয় নিয়ম প্রণয়নের প্রয়োজন। জাতীয় সেমিনার ও বিচারক সম্মেলনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে, কেবলমাত্র আলোচনা নয়, বরং একাডেমিক, গবেষক এবং আইপিআর বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এমন একটি নিয়ম প্রণয়ন আমাদের সময়ের দাবি।
এর পাশাপাশি, সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে একটি জাতীয় প্যানেল তৈরি করা উচিত, যা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মাবলির সংশোধনে সহায়তা করবে। এই ধরনের উদ্যোগ ভারতের আইপিআর বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
লেখিকা : মালবিকা সেন, আইন বিভাগের শিক্ষক, এবং ডকটোরাল স্কলার, পশ্চিমবঙ্গ ইউনিভার্সিটি অব জুডিশিয়াল সায়েন্সেস (WBNUJS), কলকাতা। তিনি WBNUJS-এর কেন্দ্র ফর ডিসেবিলিটি রাইটস অ্যান্ড ইক্যুয়াল অপার্চুনিটিজ-এর সহকারী পরিচালকও। তাকে ২০২৩-২৪ সালের স্পাইসি আইপি–শামনাদ বাশীর মেমোরিয়াল ডকটোরাল ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।
[1] SpicyIP, “কলকাতা হাইকোর্ট আইপিডি বিধি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে: একটি দ্রুত তুলনা,” SpicyIP ব্লগ (সেপ্টেম্বর ২০২৪), https://spicyip.com/2024/09/calcutta-high-court-notifies-ipd-rules-a-quick-comparison.html।
[2] “বৌদ্ধিক সম্পত্তি সম্পর্কে,” বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO) ওয়েবসাইট (শেষ দেখা ফেব্রুয়ারি ২০২৫), https://www.wipo.int/about-ip/en/।
[3] “ভারতে পেটেন্ট মামলা পরিচালনার নির্দেশিকা – 6.11,” বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO) ওয়েবসাইট (শেষ দেখা ফেব্রুয়ারি ২০২৫), https://www.wipo.int/patent-judicial-guide/en/full-guide/india/6.11।
[4] “বৌদ্ধিক সম্পত্তি আপিল বোর্ড (IPAB),” ভারতীয় কপিরাইট অফিস (শেষ দেখা ফেব্রুয়ারি ২০২৫), https://copyright.gov.in/frmIPAB.aspx।
[5] “IPAB বিলুপ্তি: বৌদ্ধিক সম্পত্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তন,” Mondaq (শেষ দেখা ফেব্রুয়ারি ২০২৫), https://www.mondaq.com/india/trademark/1074448/abolishment-of-ipab-changes-to-the-ip-regime।
[6] “কলকাতা হাইকোর্টের IPR ডিভিশন বিধি, ২০২৩ সংক্রান্ত মন্তব্য,” SpicyIP ব্লগ (জানুয়ারি ২০২৪), https://spicyip.com/2024/01/comments-on-ipr-division-rules-of-high-court-at-calcutta-2023.html।
[7] “বিশেষজ্ঞরা ও কলকাতা হাইকোর্টের IPRD বিধি, ২০২৪: এক সমালোচনা ও আলোচনা,” SpicyIP ব্লগ (অক্টোবর ২০২৪), https://spicyip.com/2024/10/experts-and-calcutta-high-court-iprd-rules-2024-a-critique-and-discussion.html।
[8] Ibid.
[9] Ibid.
[10] “নতুন রোস্টার প্রকাশিত: কলকাতা হাইকোর্টের বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার বিভাগকে স্বাগতম,” SpicyIP ব্লগ (অক্টোবর ২০২৪), https://spicyip.com/2024/10/new-roster-out-welcome-calcutta-hc-intellectual-property-rights-division.html।
[11] “UK-এ মেধাস্বত্ব মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার“ (Two Birds, 2024)। https://www.twobirds.com/en/patenthub/shared/insights/2024/uk/patent-litigation-in-practice-series-spotlight-on-the-uk-the-use-of-experts
[12] “ইউনিফায়েড পেটেন্ট কোর্ট (UPC) এবং এর কার্যপ্রণালী” (Ipside, n.d.)। https://www.ipside.com/en/upc
[13] “জাপানের মেধাস্বত্ব আদালতে বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার“ (IP Courts of Japan, n.d.) https://www.ip.courts.go.jp/eng/documents/expert/index.html.
[ad_2]
Source link

